পেটে ব্যথা কমানোর উপায় - পেট এর সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করব

পেটে ব্যথা কমানোর উপায় গুলি জানা থাকলে যদি কোনো দিন হঠাৎ পেটে ব্যথা হয়। তাহলে আপনি এই সকল কাজ করে আপনার পেটের ব্যাথা দূর করতে পারবেন। এমন হতে পারে যে, আপনি বুঝতে পারছেন না এটি গ্যাস্ট্রিক নাকি অন্য কিছু। কী ওষুধ খাবেন, কার কাছে যাবেন, তা-ও বুঝতে পারছেন না। পেটে ব্যথার সঠিক স্থান, ধরন-ধারণ, আনুষঙ্গিক উপসর্গ ইত্যাদি মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা তো আছেই। 

পেটে ব্যথা কমানোর উপায় - পেট এর সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করব

প্রথমেই খেয়াল করতে হবে ওপর পেটে ব্যথা হচ্ছে, না তলপেটে। ওপরে হলে ব্যথা এক আঙুল দিয়ে নির্দেশ করলে সেটা কোন জায়গায় ওপর ডান, নাকি ওপর বাম? ব্যথাটা কোন দিকে ছড়াচ্ছে? কামড়ে ধরে আছে নাকি চিনচিন করছে, না জ্বালা করছে? সঙ্গে বমি, অরুচি, পায়খানার সমস্যা ইত্যাদি আছে কি না। কোনো কিছু খেলে বাড়ে নাকি খালি পেটে বাড়ে? আমাদের পেট ব্যাথা হলে কি খাওয়া উচিত? পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখার উপায় কি? পেট ফাঁপা দূর করার ঘরোয়া উপায় ? অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘরোয়া উপায়? পেট পরিষ্কার রাখতে যে ৫ খাবার খাবেন, এই সকল বিষয় আপনারা এই পোস্টের মধ্যেই পাবেন।

কেমন হতে পারে পেটে ব্যথার ধরন

➪ পেপটিক আলসার বা গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা সাধারণত পেটের ওপর দিকে মাঝখানে শুরু হয়। এটি খালি পেটে বাড়ে, কখনো চিনচিনে, কখনো জ্বালাপোড়ার মতো মনে হয়। এর সঙ্গে বমিভাব, টক ঢেকুর, পেট ফাঁপা ইত্যাদি থাকতে পারে। অ্যান্টাসিড বা অন্য গ্যাস্ট্রিকের ওষুধে বেশ উপশম মেলে।

➪ একই জায়গায় বা একটু বাঁ দিকে অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ হতে পারে। কিন্তু এই ব্যথা প্রচণ্ড তীব্র, পেছন দিকেও অনুভূত হয়। রোগী ব্যথায় কুঁকড়ে যায়। সামনে ঝুঁকে থাকলে আরাম মেলে। সঙ্গে বমি থাকতে পারে।

➪ ওপরের পেটের ডান দিকে ব্যথা হতে পারে পিত্তথলিতে প্রদাহ বা পাথর থাকলে। এই ব্যথাও ডান দিকে পেছন পর্যন্ত ছড়ায়, সঙ্গে বমি হতে পারে। বিশেষ করে চর্বিযুক্ত খাবার খেলে এটি বাড়ে। যকৃতের প্রদাহেও একই জায়গায় ব্যথা হয়। চিনচিন করে ব্যথা, সঙ্গে জ্বর, জন্ডিস, অরুচি ইত্যাদি হেপাটাইটিস বা যকৃতে প্রদাহ নির্দেশ করে। যকৃতে ফোঁড়া হলে এই ব্যথা তীব্র হয়, সঙ্গে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর।

➪ পেটের ওপরের দিকে ডান অথবা বাঁ কিডনিতে পাথর, প্রদাহ বা সংক্রমণ হলে সেই পাশে ও পেছনে ব্যথা হয়। এই ব্যথা ক্রমেই নিচে নেমে তলপেটেও ছড়ায়। কিডনির ব্যথা প্রচণ্ড তীব্র হয়, একটু পরপর ছাড়ে, আবার আসে। সঙ্গে বমি, কাঁপুনি দিয়ে জ্বর থাকতে পারে।

➪ নাভির মাঝখান থেকে ব্যথা যদি ক্রমেই তলপেটের ডান দিকে ছড়িয়ে যায়, সেখানে হাত দিলেই ব্যথা হয়, ধীরে ধীরে তীব্রতা বাড়তে থাকে, তাহলে তা অ্যাপেন্ডিসাইটিস কি না, ভাবতে হবে।

➪ তলপেটে ব্যথার সঙ্গে প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া ও জ্বর প্রস্রাবের সংক্রমণ নির্দেশ করে। মেয়েদের জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের নানা সমস্যায় ব্যথা হতে পারে।

➪ সাধারণ আমাশয়, ফুড পয়জনিং ও বদহজম থেকে ব্যথা পেটজুড়ে থাকে। বমি বমি ভাব, পেটে শব্দ, পাতলা পায়খানা ইত্যাদি হয়। আবার কোষ্ঠকাঠিন্য থেকেও পেটে ব্যথা হয়।

➪ দীর্ঘদিনের পেটের ব্যথার সঙ্গে ওজন হ্রাস, রক্তশূন্যতা, দুর্বলতা ইত্যাদি সতর্কসংকেত। অন্ত্রে ক্যানসার বা টিবিরও লক্ষণ এই পেটে ব্যথা। তাই পেটের ব্যথাকে ছোট করে দেখবেন না।

পেটে ব্যথা কমানোর উপায়

পেট ব্যাথা ভালো করার জন্য তিনটি উপায় আপনাদের বলবো যা মেনে চললে আপনার পেট ব্যাথা ভালো হয়ে যাবে।

হলুদ

হলুদের মধ্যে রয়েছে কারকিউমিন। এটি প্রদাহ কমাতে কাজ করে; পরিপাক ভালো করতে সাহায্য করে।

• এক গ্লাস বা দুই গ্লাস পানির মধ্যে হলুদ দিয়ে গরম করুন। দিনে দুইবার এটি পান করুন।

• এ ছাড়া ৪০০ থেকে ৬০০ মিলিগ্রাম কারকিউমিন সাপ্লিমেন্ট দিনে তিনবার খেতে পারেন। তবে যেকোনো ওষুধ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। 

আদা

পেটের ব্যথা কমাতে আদা ব্যবহার করতে পারেন। আদার মধ্যে রয়েছে প্রদাহরোধী উপাদান। এটি প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং পেট ব্যথা কমায়।

• পেট ব্যথা কমাতে আদা চা পান করতে পারেন। আদা চা বানাতে, এক কাপ গরম পানির মধ্যে কয়েক টুকরো আদা দিয়ে ফুটান। এর মধ্যে সামান্য মধু দিন। এরপর এটিকে পান করুন। এ ছাড়া আদা কুচিও চিবাতে পারেন।

গরম পানির সেঁক

দ্রুত পেটের ব্যথা কমাতে গরম পানির সেঁক খুব কার্যকর। এটি পেটের ব্যথা কমাতে ও পেশি শিথিল করতে কাজ করে।

• একটি হট ব্যাগে গরম পানি ভরে পাঁচ থেকে ১০ মিনিট রাখুন। প্রয়োজনে পুনরায় পদ্ধতিটি অনুসরণ করুন।

• এ ছাড়া গরম পানি দিয়ে গোসল করুন। এটিও ব্যথা কমাতে কাজ করবে। তবে গরম পানি সেঁক নেওয়ার সময় একটু সতর্ক থাকুন। না হলে পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

পেট ব্যাথা হলে কি খাওয়া উচিত

পেট ব্যাথা হলে প্রথমেই মূল কারণ বুঝে নিতে হবে। পেট ব্যাথার কারণ বিভিন্ন হতে পারে, যেমন খাবারের অসম্মতি, ভেজাল খাবার, জঠিলতা, অস্বাস্থ্যকর জীবাণুগুলি ইত্যাদি।

আদা চা

পেট ব্যথা ও বমি বমি ভাব কমাতে আদা চা খেতে পারেন। এতে করে আমাদের শরীর থেকে সব রকমের প্রদাহ দূর হয়ে যায়। রান্না করে, কাঁচা কিংবা চায়ের মাধ্যমে আপনি আদা খেতে পারেন।

ক্যামোমিল চা

পেট ব্যথ, বমি বমি ভাব, বদহজম ও ডায়রিয়াসহ এমন অনেক রোগের ওষুধ হিসেবে কাজ করে ক্যামোমিল। এর ভেষজের গুণ নিয়ে এখন পর্যন্ত খুব বেশি গবেষণা না হলেও এর উপকারিতা সম্পর্কে অনেকেরই জানা। তাই তো পেট ব্যথায় ক্যামোমিল চায়ের ওপর ভরসা করতে পারেন।

পিপারমেন্ট চা

পেট ব্যথা কমাতে পিপারমেন্ট চা দারুণ কাজ করে। যাদের পেট ব্যথা, ইরিটেবিল বাওয়েল সিন্ড্রোম, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া ও বদহজমের সমস্যা আছে তারা চাইলে পিপারমেন্ট চা খেতে পারেন। এতে অনেকটা উপকার মিলতে পারে।

লেবু চা

পেট ব্যথার সমস্যায় লেবু চা খেতে পারেন। এতে সমস্যা অনেকটা কমে যেতে পারে। তাই ঝটপট লেবু চা বানিয়ে ফেলুন। একই সঙ্গে চায়ের সঙ্গে সামান্য পরিমাণে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন।

লেবু ও পুদিনার রস

লেবুর রসের সঙ্গে পুদিনা পাতার রস মেশান। এরপর তার সঙ্গে সামান্য পরিমাণ আদার রস ও লবণ মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণ খেলে পেট ব্যথার সমস্যা অনেকটাই কমবে।

কাঁচাকলা

কাঁচাকলার টোটকা আমাদের অনেকেরই পরিচিত। একটু পেট ব্যথা হলেই কাঁচাকলার রান্না করা খাবার খাওয়ার অভ্যাস আমাদের অনেকেরই রয়েছে। কাঁচাকলা সিদ্ধ করে খেলে পেট ব্যথা ও পেটের প্রদাহ অনেকটা কমিয়ে দেয়। এতে রয়েছে—ভিটামিন বি৬, ফোলেট এবং পটাশিয়াম। এর মিনারেল শরীরের কোনো পেশিতে টান লাগলে বা ব্যথা হলে সেটি কমাতে সাহায্য করে।

দই

পেটের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্যে সমস্যা হলে পেট ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে দইয়ের মতো প্রোবায়োটিক খাবার পেটের ভারসাম্য বজায় রেখে ব্যথা অনেকটা উপশম করতে পারে।

পর্যাপ্ত পানি পান

পেট ব্যথার সমস্যায় পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। কারণ, বেশি বেশি পানি পান করলে শরীর থেকে অনেকটা টক্সিন বেরিয়ে যায়।

হাঁটাহাঁটি করা

যদি আপনার নিয়মিত পেট ব্যথা শুরু হয় তাহলে আপনাকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। এক্ষেত্রে পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করতে পারেন। তাহলে এ সমস্যা থেকে মুক্তি মিলতে পারে।

আজওয়ান

পেটের সমস্যা সমাধানে আজওয়ান খেতে পারেন। এতে ব্যথা অনেকটা কমে যাবে।

পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখার ঘরোয়া উপায়

পেট এর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারলে আমরা অনেক রোগ থেকে মুক্তি থাকতে পারবো। তাই এই পেটের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে কিছু ঘরোয়া উপায় বলবো তা ভালো করে মেনে চলবেন।

ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার বেছে নিন

ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে পুষ্ট করে এবং তাদের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি করে। পর্যাপ্ত ফাইবার গ্রহণ নিশ্চিত করতে আপনার খাবারে ফল, শাক-সবজি, লেবু, বাদাম এবং দানাশস্য অন্তর্ভুক্ত করুন। বাদাম খাদ্যতালিকাগত ফাইবারের একটি ভালোল উৎস হওয়ায় সহজেই আপনার খাদ্যতালিকায় যোগ করা যেতে পারে। নাস্তায় কাঁচা বাদাম খেতে পারেন, অথবা সালাদ বা ওটমিলে যোগ করেও খেতে পারেন। বাদাম আপনার ফাইবার গ্রহণকে বাড়িয়ে তোলে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সাহায্য করে

প্রোবায়োটিক

গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিতে থেরাপিউটিক অ্যাডভান্সেস অনুসারে, প্রোবায়োটিক খাবার খেলে তা স্বাস্থ্যকর অন্ত্র বজায় রাখতে সাহায্য করে। সেইসঙ্গে এটি অন্ত্রের প্রদাহ এবং অন্যান্য অন্ত্রের সমস্যা এড়াতে পারে। প্রোবায়োটিক হলো জীবন্ত অণুজীব যা পর্যাপ্ত পরিমাণে খাওয়া হলে অসংখ্য স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। এই উপকারী ব্যাকটেরিয়া সুষম অন্ত্রের মাইক্রোবায়োটা বজায় রাখে এবং হজমের স্বাস্থ্য উন্নত করে। দই, বাটার মিল্ক, ফার্মেন্টেড রাইস ডিশ, কিমচি, স্যুরক্রাউট এবং ফার্মেন্টেড আচারের মতো খাবারে অন্ত্র-বান্ধব ব্যাকটেরিয়া থাকে যা আপনার অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে

প্রিবায়োটিক

প্রিবায়োটিক খাবার উপকারী অণুজীবের জন্য খাদ্য হিসাবে কাজ করে, তাদের বৃদ্ধি এবং অন্ত্রে বিস্তারে সহায়তা করে। আপনার খাদ্যতালিকায় প্রিবায়োটিক খাবার যেমন রসুন, পেঁয়াজ, অ্যাসপারাগাস, কাঁচা কলা, ফ্ল্যাক্সসিড, লেগুম, আপেল এবং এ জাতীয় খাবার যোগ করুন। এতে স্বাস্থ্যকর অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম তৈরি করা সহজ হবে। এই খাবারগুলো হজমের স্বাস্থ্য এবং সামগ্রিক সুস্থতায় সাহায্য করেস্বাস্থ্যকর খাবার এবং স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ

স্বাস্থ্যকর খাবার এবং স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ

মন ও অন্ত্রের সংযোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, কারণ চাপ এবং মানসিক সুস্থতা অন্ত্রের স্বাস্থ্যকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। হজম এবং পুষ্টির শোষণকে অপ্টিমাইজ করার জন্য খাবারের সময় মনোযোগী হয়ে খান। আপনার দৈনন্দিন রুটিনে ধ্যান, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা ইয়োগার মতো স্ট্রেস-কমানোর কৌশল যোগ করুন যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে সাহায্য করেহাইড্রেটেড থাকুন এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার সীমিত করুন

হাইড্রেটেড থাকুন এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার সীমিত করুন

পর্যাপ্ত হাইড্রেশন সর্বোত্তম হজম এবং সামগ্রিক অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্ত্রের কার্যকারিতা এবং পুষ্টির পরিবহন বাড়াতে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। প্রতিদিন আট গ্লাস পানি পানের লক্ষ্য রাখুন এবং চিনিযুক্ত পানীয় কম পান করুন। প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া কমিয়ে দিন। এর পরিবর্তে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার বেছে নিন।।।

পেট পরিষ্কার রাখতে যে ৫ খাবার খাবেন

পেট পরিষ্কার রাখা শরীর ভালো রাখার প্রথম শর্ত। কারণ হজম ঠিকভাবে হলে এবং শরীর থেকে বর্জ্য সঠিক প্রক্রিয়ায় বের হলে সুস্থতার পথ অনেকটাই প্রশস্ত হয়ে যায়। শীতের এই সময়ে অনেকের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দেয়। এই সমস্যার কারণে পেট ঠিকভাবে পরিষ্কার হয় না। যে কারণে গ্যাস জমে থাকে পেটে। সেইসঙ্গে চলে যায় খাওয়ার রুচিও।

পেটে ব্যথা কমানোর উপায় - পেট এর সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করব

কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে পেট, কোমর ও মলদ্বারে ব্যথা হয়ে থাকে। সেইসঙ্গে চাপ পড়ে কোলনে। এই সমস্যা দীর্ঘ সময় চললে হতে পারে কোলন ক্যান্সারও। তাই শুধু শীতে নয়, সব সময়েই খাবার খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। শীতকালেও থাকতে হবে পর্যাপ্ত পানি পানের অভ্যাস। নয়তো কোষ্ঠকাঠিন্যের কবলে পড়তে সময় লাগবে না। তাই এমন খাবার খেতে হবে যেগুলো পেট পরিষ্কার রাখতে পারে। জেনে নিন এমনই ৫ খাবার সম্পর্কে-

প্রোবায়োটিক

প্রোবায়োটিক হলো জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া যা প্রাকৃতিকভাবে দই, আচার ইত্যাদি খাবারে পাওয়া যায়। এসব খাবার আমাদের পাকস্থলীর কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে। ফলে উন্নতি ঘটে হজমশক্তির। বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, প্রোবায়োটিক অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমকে উন্নত করে। এর ফলে বাড়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। কমে প্রদাহ এবং কোষ্ঠকাঠিন্য। পেট থাকে পরিষ্কার।

সবুজ শাক-সবজি

পেট পরিষ্কার রাখার সবুজ শাক-সবজি সহায়ক একটি খাবার। আপনি যদি নিয়মিত সবুজ শাক ও সবজি খান তবে পেট পরিষ্কার রাখার জন্য আর চিন্তা করতে হবে না। এসব শাক-সবজিতে পুষ্টির পাশাপাশি মিলবে পর্যাপ্ত ফাইবারও। এগুলো পাকস্থলীর জন্য খুবই উপকারী। তাই মলত্যাগে কোনো ধরনের সমস্যা হয় না।

ডাল

নানা ধরনের ডাল আপনি বাজারে কিনতে পাবেন। বাঙালি রান্নায় ডালের পদ থাকেই। এই ডাল কিন্তু আপনার পেট পরিষ্কার রাখতেও কাজ করে। মসুর, মটর, ছোলা, মটরশুঁটি ইত্যাদিতে থাকে পর্যাপ্ত ফাইবার যা হজমশক্তি বাড়াতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কাজ করে। তাই পেট পরিষ্কার রাখতে নিয়মিত ডাল খাওয়ার অভ্যাস করুন।

ফল

পেট পরিষ্কার রাখার জন্য আরেকটি উপকারী খাবার হলো বিভিন্ন ধরনের ফল। ফাইবার সমৃদ্ধ বিভিন্ন ফল যেমন আপেল, নাশপাতি, কমলা ইত্যাদি পেট পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এগুলো নিয়মিত খেলে আপনি মলত্যাগের সময় আর কোনো সমস্যাই অনুভব করবেন না। এসব ফলে ফাইবার ছাড়াও থাকে পর্যাপ্ত পানি, ফ্রুক্টোজ ও সরবিটল। যা পেট পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে অন্যতম সহায়ক।

পানি

পেট পরিষ্কার রাখার আরেকটি সহজ উপায় হলো পানি পান করা। শরীর ভেতর থেকে আর্দ্র রাখার জন্য প্রতিদিন প্রয়োজনীয় পানি পান করতে হবে। তবে তা যেন অতিরিক্ত না হয়। শরীরে পানির অভাব হলে পেট পরিষ্কার করা কঠিন হবে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন দুই-তিন লিটার পানি পান করলেই যথেষ্ট। এটি আপনাকে সতেজ রাখবে এবং পেট পরিষ্কার করবে সহজে।

পেট ফাঁপা দূর করার ঘরোয়া উপায় জেনে নিন

আপনি যে বয়সীই হোন না কেন, হজমের সমস্যার সম্মুখীন হওয়া খুবই সাধারণ ব্যাপার। আজকাল এটি আরও সাধারণ কারণ আমাদের খাদ্য এবং জীবনযাত্রার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের রুটিন আরও অগোছালো হয়ে উঠেছে এবং অনেকের খাদ্যাভ্যাস ফাস্টফুডের ওপর নির্ভর করে, যা আমাদের পেটকে ধ্বংস করে। কখনও কখনও আমাদের খাদ্য পরিবর্তন করার পরেও বুকে জ্বালাপোড়া, পেট ফাঁপা এবং অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা অনুভব করতে থাকি। 

পেটে ব্যথা কমানোর উপায় - পেট এর সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করব

আপনি যদি এমন কেউ হন যিনি এই হজম সংক্রান্ত সমস্যার সঙ্গে লড়াই করেন, তাহলে চিন্তা করবেন না। আপনার পেটের সমস্যা দূর করতে রয়েছ সহজ ঘরোয়া প্রতিকার। চলুন জেনে নেওয়া যাক-

লেবুপানি

পুষ্টিবিদ লীমা মহাজনের মতে, আপনার খাবারের ৩০ মিনিট আগে এবং পরে লেবুপানি পান করার অভ্যাস গ্যাস্ট্রিক নিঃসরণ বাড়ায়, যা হজম এবং আয়রন শোষণের জন্য দুর্দান্ত। খাবার খাওয়ার আগে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে খান।

আপেল সাইডার ভিনেগার

অ্যাসিডিটির সমস্যা দূর করতে কাজ করে আপেল সাইডার ভিনেগার। আপেল সাইডার ভিনেগার মিশ্রিত পানি পান করলে পাকস্থলীর অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা হজমের জন্য দারুণ এনজাইম তৈরি করতে সাহায্য করে। ২৫০ মিলি হালকা গরম পানিতে এক টেবিল চামচ আপেল সাইডার ভিনেগার যোগ করুন। আপনার খাবারের ১৫-৩০ মিনিট আগে এটি পান করুন। পুষ্টিবিদ লীমা মহাজন আরও লিখেছেন যে আপনার দাঁত রক্ষা করার জন্য আপেল সাইডার ভিনেগার পান করার পরে ভালো করে মুখ ধুয়ে ফেলতে ভুলবেন না।

ভাজা জিরা এবং মৌরি

পুষ্টিবিদ লীমা মহাজনের মতে, ভাজা জিরা এবং মৌরিতে পরিপাককারী তিক্ত উপাদান রয়েছে, যা হজমকারী এনজাইমের কার্যকলাপ বাড়াতে সাহায্য করে। এটি আপনাকে বুক জ্বালাপোড়া এবং পেট ফাঁপার সমস্যা থেকে মুক্তি দেবে। খাবারের আগে এবং পরে এই ভাজা জিরা এবং মৌরির এক চা চামচ খান এবং রস বের করার জন্য ভালোভাবে চিবিয়ে নিন।

অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘরোয়া উপায়

অ্যাসিডিটি এবং গ্যাস্ট্রিকের অস্বস্তি হলো সাধারণ হজম সংক্রান্ত সমস্যা যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। যেমন খাদ্যাভ্যাস, স্ট্রেস এবং জীবনযাপনের ধরনের কারণে এটি দেখা দিতে পারে।

পেটে ব্যথা কমানোর উপায় - পেট এর সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করব

এই সমস্যা উপশম করার জন্য ওষুধ সহজলভ্য থাকলেও তা নিয়মিত খাওয়ার শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তবে বেশ কয়েকটি সহজ ঘরোয়া প্রতিকার অ্যাসিডিটি এবং গ্যাস্ট্রিক অস্বস্তি থেকে মুক্তি দিতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক-

মৌরি বীজ

মৌরি বীজের কার্মিনেটিভ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা গ্যাস এবং পেটফাঁপা কমাতে সাহায্য করে, যার ফলে গ্যাস্ট্রিকের অস্বস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। খাওয়ার পরে এক চা চামচ মৌরি বীজ চিবিয়ে নিন বা মৌরি বীজের চা পান করুন। এক চা চামচ মৌরির গুঁড়া গরম পানিতে ১০-১৫ মিনিটের জন্য ভিজিয়ে রাখুন। হজম সহজ করতে এবং অ্যাসিডিটি কমাতে এই ভেষজ চা ছেঁকে পান করুন।

ঠান্ডা দুধ

ঠান্ডা দুধ অ্যাসিডিটির জন্য একটি কার্যকর ঘরোয়া প্রতিকার। কারণ এটি পাকস্থলীর অ্যাসিড দূর করতে সাহায্য করে এবং জ্বালাপোড়া থেকে মুক্তি দেয়। পেটের আস্তরণ প্রশমিত করতে এবং অ্যাসিডিটি উপশম করতে ধীরে ধীরে এক গ্লাস ঠান্ডা দুধ পান করুন। এর কার্যকারিতা বাড়াতে এক চা চামচ মধুও যোগ করতে পারেন।

ক্যামোমাইল চা

ক্যামোমাইল চা পেটের আস্তরণের প্রদাহ কমাতে এবং গ্যাস্ট্রিকের অস্বস্তি দূর করতে সাহায্য করতে পারে। ৫-১০ মিনিটের জন্য গরম পানিতে একটি ক্যামোমাইল টি ব্যাগ ভিজিয়ে এক কাপ ক্যামোমাইল চা তৈরি করুন। খাওয়ার পরে বা যখনই অ্যাসিডিটি বা পেট ফাঁপা অনুভব করেন তখন এই প্রশমিত চা পান করুন।

আপেল সাইডার ভিনেগার

অম্লীয় প্রকৃতি সত্ত্বেও আপেল সাইডার ভিনেগার পাকস্থলীর অ্যাসিডের মাত্রায় ভারসাম্য রাখতে এবং অ্যাসিডিটি কমাতে সাহায্য করতে পারে। এক গ্লাস পানিতে এক থেকে দুই টেবিল চামচ কাঁচা এবং ফিল্টার না করা আপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে নিন। অম্লতা রোধ করতে খাবারের আগে বা অস্বস্তি কমাতে গ্যাস্ট্রিক দেখা দিলে এটি পান করুন। জ্বালাপোড়া এড়াতে আপেল সাইডার ভিনেগার সঠিকভাবে পাতলা করতে হবে। তবে এটি পান করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারলে ভালো।

আদা চা

আদার প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা অ্যাসিডিটি কমাতে এবং পাচনতন্ত্রকে প্রশমিত করতে সাহায্য করে। আদা চা তৈরি করার জন্য কয়েক টুকরা আদা গরম পানিতে প্রায় ১০ মিনিটের জন্য সেদ্ধ করুন। তরলটুকু ছেঁকে নিন এবং স্বাদের জন্য একটু মধু বা লেবুর রস যোগ করুন। অ্যাসিডিটি এবং গ্যাস্ট্রিকের অস্বস্তি কমাতে এই আদা চা দিনে ২-৩ বার পান করুন।

কলা

কলা পটাসিয়াম সমৃদ্ধ, যা পেটের অ্যাসিড নিরপেক্ষ করতে এবং জ্বালা কমাতে সাহায্য করে। সেইসঙ্গে কলায় প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড রয়েছে যা অ্যাসিডিটি থেকে দ্রুত মুক্তি দিতে পারে। যখনই অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের অনুভব করবেন তখনই একটি পাকা কলা খাবেন। এক কাপ দইয়ের সঙ্গে একটি কলা ব্লেন্ড করে একটি স্মুদি তৈরি করেও খেতে পারেন।

ডাবের পানি

ডাবের পানি ক্ষারীয় প্রকৃতির এবং এটি পেটের অ্যাসিড নিরপেক্ষ করতে সাহায্য করে। ডাবের পানি খেলে তা অ্যাসিডিটি এবং গ্যাস্ট্রিক অস্বস্তির জন্য একটি চমৎকার প্রতিকার হতে পারে। হাইড্রেশন বজায় রাখতে এবং অ্যাসিডিটির সমস্যা দূর করতে নিয়মিত ডাবের পানি পান করুন। এটি প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রোলাইটও সরবরাহ করে যা হজমে সহায়তা করে।

শেষ কথা ➡️ আমরা আপনাদের সাথে এই পোস্টে পেটে ব্যথা কমানোর উপায় থেকে নিয়ে পেট এর সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। এই সব বিষয় জানা থাকলে, আপনার পেট এর নানা সমস্যা দূর করতে সাহায্য করবে। আশা করছি আপনার এই পোস্টটি পছন্দ হয়েছে। আপনার মতামত এবং প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত মূল্যবান এবং আমরা সব সময় তাদের স্বাগত জানাই। এই রকম আরো পোস্ট চাইলে কমেন্ট করে আমাদের জানান। আবার আপনার সাথে দেখা হবে পরবর্তী পোস্টে। ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আমার জীবন বিডিতে নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন, প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url